নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর হওয়ার জন্য যেসব ল্যাংগুয়েজ শিখতে হবে

হ্যালো বন্ধুরা। কেমন আছো তোমরা। আবারো ফিরে আসলাম তোমাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। তবে আজকে টপিকটি নিয়ে অনেকে তার ভবিষ্যৎ প্লান করে থাকে। আর টপিকটি হচ্ছে নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর। বন্ধুরা আমাদের অনেকেরই ইচ্ছা থাকে নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর হওয়ার।  তবে আমরা অনেকেই জানি না নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর হতে গেলে আমাদের কি কি জানতে হবে বা কোন কোন প্রোগ্রামিং ভাষা শিখতে হবে। তাই এই জন্য আজকে আমি ৫ টি প্রোগ্রামিং ভাষা নিয়ে কথা বলবো যেগুলো নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর হিসবে কাজ করতে চাইলে অবশ্যই জানতে হবে।

তাহলে চলো বন্ধুরা বেশি কথা না বলে আমরা সেই পাঁচটি ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে ভালোভাবে জানি। আর এই পাঁচটি ল্যাঙ্গুয়েজ আমাদের ভবিষ্যতে অনেক কাজে আসবে। তাহলে চলো বন্ধুরা শুরু করা যাক।

পার্ল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ

১৯৮৭ সালের ১৮ই ডিসেম্বর জন্ম হয় নতুন প্রোগ্রামিং ভাষার,  নাম পার্ল। এটি এমন একটি ভাষা যেটি পরিপূর্ণ সক্ষমতা রাখছে নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেশন এর কাজে,  নেটওয়ার্ক সার্ভার ডেভেলপমেন্ট করতে এবং ওয়েব সার্ভার ডেভেলপ করতে একদম যোগ্য একটি ভাষা এবং বরাবরে মত এটি তার প্রমাণও দিয়ে আসছে। এমনকি কমন গেটওয়ে ইন্টারফেস এই ভাষার জন্য স্ক্রিপ্ট তৈরী করছে যা এই ভাষার জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই ভাষাটি ওয়েব সার্ভারকে ডায়নামিক ভাবে ওয়েব সাইটের সাথে জুড়ে দিতে পারে বলে এটি একটি জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষায় পরিণত হয়েছে। আর নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর দের জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয় একটি ভাষা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

শুধু এতটুকুর জন্যই পার্ল ল্যাঙ্গুয়েজ এত জনপ্রিয় নয়। পার্ল ল্যাঙ্গুয়েজ ওপেন সোর্স সাপোর্ট এর জন্য নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর দের জন্য উপকারী এবং সহজসাধ্য একটি ভাষা এবং সিস্টেম ডিজাইনেও এটি উপকারী অনেক। এত দ্রুততম প্রোগ্রামিং ভাষার কারণে অন্য ভাষা যেখানে অনেক সময় নিয়ে বড় ডেটা অ্যানালাইসিস করে ডেভেলপারদের অনেক সময় ক্ষয় করে সেখানে পার্ল একই সাথে ডেটা অ্যানালাইসিস ও ডেভেলপমেন্ট দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে। এতে ডেভেলপারদের অনেক সময় বেঁচে যায়। তাছাড়া পার্ল ভাষা দিয়ে তৈরী অ্যাপ্লিকেশন গুলো অন্যান্য ভাষার অ্যাপ্লিকেশন থেকে অনেক দ্রুত কাজ করে।

পার্ল ভাষাটি নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর,  লিনাক্স, ইউনিক্স ব্যবহার কারীদের  জন্য সবথেকে বেশি উপকারী কারণ এটির ব্যাকরণ  সাবলীল এবং অনেক বৈচিত্র ময়। এটি বিগিনার দের জন্যও কাজ করে কারণ এটিতে অনেক ধরণের ভাষার ব্যকরণ ব্যবহার করা  হয়েছে।

ব্যাস প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ

ব্যাস একটি ইউনিক্স লিনাক্স ওএস  এ চালিত একটি কমান্ড বেজ প্রোগ্রামিং ভাষা। এর সিনট্যাক্স এবং ভেরিয়েবল অনেক উন্নত। এটি কমান্ড লাইন ইন্টারফেস এবং  অ্যপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস এবং সিম্পল নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল হিসেবে পরিচিত।

ব্যাস তৈরি হয়েছিল বোর্ন শেলের প্রতিস্থাপন হিসেবে বোর্ন অ্যাগেন শেল নামে ১৯৮৭ সালে। এর পর থেকে ব্যাসের অনেক ভার্সন প্রকাশিত হয়েছে এবং সেগুলো ফ্রিতে এভেলেবেল আছে। 

ব্যাসের সুবিধা হল এটির বিল্ড-ইন ফিচার  হিসেবে এটি ব্যবহারকারীর সকল তথ্য সেভ করে রাখে। ব্যবহারকারী কি লিখেছে বা কি লিখেছিল সে সব কিছুই এটি সেভ করে রাখে এবং এটির  .bash  এক্সটেনশন এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী কোন তথ্য আলাদা করে গোপন রাখতে চায় তা একটি গোপন ফাইল দ্বারা সুরক্ষিত করে রাখে যেটি অন্যান্য কোন ভাষায় নেই।

এটি নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটরদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাষা। কারন এটি অন্যান্য ভাষা থেকে অনেক সুরক্ষিত একটি সিস্টেম।  যেমন এর দ্বারা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি রেস্টিকটেড সেকশন তৈরী করা যায়। যার মাধ্যমে কনফিডেন্সিয়াল তথ্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের চোখের আড়ালে রাখা যায় উদাহরন- স্বরূপ লগ ইন তথ্য । তাছাড়া এই ভাষা ব্যবহারকারী নিজের পছন্দমত কমান্ড তৈরী করতে পারে এবং সেটি ব্যবহার ও করতে পারে। এই সুবিধার জন্য এটি অন্যান্য ভাষা হতে অনেক সুরক্ষিত একটি ভাষা। তাছাড়া এর মাধ্যমে লগইন এর কনফিডেনশিয়াল ফাইলগুলো গোপন করা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের এক্সটেনশন এর মাধ্যমে সে গুলোকে কনফিডেন্টশিয়ালি রাখা যায়। তাই এই ভাষাটি ইউনিক্স সেল এর মত হলেও এটি নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। তাই যারা নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর হতে চাও তাদের জন্য এই ল্যাঙ্গুয়েজ টি জানা খুবই দরকার।

ট্যাকল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ

ট্যাকল  গত শতকের 90 এর গোড়ার দিকে এর জন্ম হয়। হতাশার কুড়ে ঘর থেকে জন্মদাতা ছিলেন জন আউজার আউট। অন্যান্য ভাষার প্রতি হতাশা থেকেই তিনি এই ভাষাটি তৈরি করা শুরু করেন এবং জন্ম হয় টুল কমান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ এর। এর তৈরি মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি ভাষা তৈরি করা যেটি সহজ কিন্তু অনেক শক্তিশালী হবে। স্বপ্নের ফল এই ভাষা। এটি সাধারণ সি সি প্লাস এবং জাভার মতো সহজ।  কিন্তু এগুলো থেকে অনেক শক্তিশালী। এটি দিয়ে নেটওয়ার্কের লাইব্রেরির ফাংশন পুরোপুরি বিস্তারিত ভাবে সাজানো সম্ভব। তাছাড়া ডাটা কন্ট্রোল বা লাইব্রেরি থিম বানানো সম্ভব।

যারা কমবেশি প্রোগ্রামিং ভাষা সম্পর্কে জানেন তারা অবশ্যই  ট্যাকেল  সম্পর্কে শুনেছেন। কিন্তু তারপরেও অনেকেরই প্রশ্ন এই ভাষাটি কি মৃত না জীবিত। আসলে এই ভাষাটি মৃত নয় আবার খুব একটা জীবিত নয়। তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে এই ভাষাটি কেন আমরা শিখব? কি করে আমি বলবো যারা বড় কোম্পানির সাথে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এই ভাষাটি অত্যাবশ্যকীয়। কেননা অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের অন্যের প্রোগ্রামিং এর জন্য এই ভাষাটি ব্যবহার করে থাকে কারণ এটি ক্র্যাক  করা অনেক কষ্টকর এবং এর সিকিউরিটি অনেক ভালো। সিসকোর মত বড় কোম্পানি এই ভাষার উপর 70 ভাগ আস্থা রেখে তাদের প্রোডাক্ট এই ভাষার উপর তৈরি করে থাকে।
টেক এন সি সি প্লাস প্লাস এবং জাভা এগুলোর মতো কিন্তু অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এর সাহায্যে লাইব্রেরী থিম এসএসএল সার্টিফিকেট এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ। তাছাড়া কোন ওয়েবসাইট কি পরিমান নিয়ে কাজ করবে তাও নির্ধারণ করা যাই প্রোগ্রামের মাধ্যমে।তাই নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটরদের জন্য এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ।  
  

গো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ

গো ভাষাটি গুগলের নিজস্ব ভাষা বলা চলে। যেটি গুগলের এক্সপার্ট রা তৈরী করেন। এর যাত্রা শুরুর দুই বছর পর সি++,  পাইথন এবং জাভাস্ক্রিপ্ট এর স্ক্রিপ্ট যুক্ত করে আবারও নতুন রূপে জনগনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় । এই ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে উবার নেটফ্লিক্স এর মত বড় বড় অনেক প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়েছে। যদিও অন্যান্য ভাষার তুলনায় এই ভাষার অভিজ্ঞতা অনেক কম। তাহলে বুঝাই যাচ্ছে এটি কত ভালো মানের ভাষা। 

তাছাড়া এর এটি উচ্চমানের তথ্য প্রসেসিংয়ের  এর কথা মাথাই রেখে তৈরী করা হয়েছে। তাহলে বুঝাই যাচ্ছে এটি শুধু উঁচু প্রসেসিং গতি ই নয় বরং এটি দিয়ে ডেটা অ্যানালাইসিস ,  বিস্তৃত লাইব্রেরি এবং জাভার মত স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম এর অ্যাপ বানানো সম্ভব।

যেহেতু গো গুগলের একটি প্রোগ্রামিং ভাষা তাহলে বুঝাই যাচ্ছে এটি অবশ্যই ভালো মানের একটি ভাষা। নেটওয়ার্ক এডমিনদের তাদের ওয়েব নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্টের স্বাধীন প্লাটফর্ম তৈরিতে সহায়তা করে। তাই নেটওয়ার্ক এডমিনদের অবশ্যই এই ল্যাঙ্গুয়েজ টি জানা উচিত।

পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ

পাইথনের নাম আমরা সকলেই জানি।  এটি ওপেন সোর্স ভাষা হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। যদিও পাইথন সাধারণত অটোমেশন এ ব্যবহার করা হয় তবুও এটি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এ অনেক সাহায়তা করে। এর স্ক্রিপ্ট যেকোনো কাজেই ব্যবহার করা যায়। এখন সেটি কোডিং বেজড ফোকস হোক,  এডমিনিস্ট্রেশন এর কাজ হোক বা ম্যানেজমেন্ট এর কাজ হোক। ডাটা লাইব্রেরী সাজাতে পাইথনের অনেক ধরনের ফাংশন রয়েছে যার সাহায্যে কোন ওয়েবসাইটের ডাটা লাইব্রেরী অতি সহজে এবং অনেক সুন্দর করে সাজানো সম্ভব।

পাইথন সাধারণত রোবটিক্স এর কাছে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত করা হয়। কারণ এটি এক ধরনের মেশিন ল্যাংগুয়েজ হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং মেশিন এর জন্য এটি খুবই উপযুক্ত কিন্তু তাই বলে এটা শুধু রোবটিক্স এর ব্যবহার করা হবে এমন তো নয়।  ওপেনসোর্স স্ক্রিপ্ট গুলো অনেক উন্নত মানের।  পাইথন এর ফ্লাস্ক দ্বারা ওয়েব সাইটের ডিজাইন করা যায় এবং রেসপন্সিভ ওয়েবসাইট তৈরি করতে পাইথন অনেক উপকারী। তাছাড়া পাইথন এর সাহায্যে অন্যান্য ভাষার থেকে অনেক বেশি সিকিউরিটি প্রদান করা যায় ওয়েবসাইটে এবং ক্যাপচা এর মত সিস্টেম পাইথনের সাহায্যে সহজে করা সম্ভব। তাহলে বুঝা যাচ্ছে পাইথনের সাহায্যে কত সুন্দর করে একটি ওয়েবসাইট সাজানো এবং তার সিকিউরিটি প্রদান করা সম্ভব। তো নেটওয়ার্ক এডমিনদের জন্য এই ভাষাটি শেখা অত্যাবশ্যক বলা যায়।


তাহলে বন্ধুরা এই ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে জেনে তোমাদের কি রকম লাগলো সেটা অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দেবে। অন্য কোন দিন এই ল্যাঙ্গুয়েজ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত লিখবো।আর যদি তোমরা আর কোন ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে জানতে চাও তাহলে সেটা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দেবে। আমি পরবর্তীতে অবশ্যই সেই ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে বিস্তারিত লিখবো।

বন্ধুরা তাহলে আজকে অনেক কথা বলে ফেললাম।যদি পোস্টটি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই তোমাদের বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দেবে। আজ এ পর্যন্তই বন্ধুরা। সবাই ভালো থেকো সুস্থ থেকো।

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
      

Post a Comment

Previous Post Next Post