মিনিফাই কি এবং ওয়েবসাইটের কোড গুলো কিভাবে মিনিফাই করবেন

হ্যালো বন্ধুরা। কেমন আছো তোমরা। আশা করি অনেক ভালো আছো। বন্ধুরা আবারো তোমাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। আজকের পোস্টটি তাদের জন্য যারা ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করে।বন্ধুরা তোমাদের মধ্যে অনেকেরই ওয়েবসাইট রয়েছে। অনেকের ব্লগার ওয়েবসাইট রয়েছে আবার অনেকের ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট রয়েছে।আর প্রত্যেকটা ওয়েবসাইটে এইচটিএমএল সিএসএস জাভাস্ক্রিপ্ট আরও বিভিন্ন ধরনের কোডিংয়ের তৈরি। আর যেই ওয়েবসাইট এর মধ্যে যত বেশি কোড থাকবে সেই ওয়েবসাইটটি ততো আস্তে আস্তে লোড নিবে।

তাই তোমাদের ওয়েবসাইটিও যদি আস্তে আস্তে লোড নেয় তাহলে তোমাদের ওয়েবসাইটের কোড গুলো মিনিফাই করা দরকার। মিনিফাই করলে তোমাদের ওয়েবসাইটের স্পিড বেড়ে যাবে। আমি বলব না যে অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু একটু হলেও তোমাদের ওয়েবসাইটের স্পিড বাড়বে। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই মিনিফাই কি সেটা বোঝে না। বা মিনিফাই কিভাবে করতে হয় সেটাও পারে না। তাহলে চলো বন্ধুরা আজকে আমরা মিনিফাই সম্পর্কে জানি।মিনিফাই কি মিনিফাই করার উপকারিতা কি আর কিভাবে মিনিফাই করা যায় এই সম্পর্কে আমরা আজকে বিস্তারিত জানবো। তাহলে চলো বন্ধুরা বেশি কথা না বলে শুরু করা যাক।

মিনিফাই কি

মিনি ফাই প্রোগ্রামিং এর সাথে জড়িত। ওয়েবসাইট থেকে অপ্রয়োজনীয় কোডগুলো অপসারণ করাকে মিনি ফাই বলে।

আরও সহজে বলি। বন্ধুরা তোমাদের ওয়েবসাইটটি অবশ্যই কোড দিয়ে তৈরি।যেমন এইচটিএমএল সিএসএস জাভাস্ক্রিপ্ট পিএইচপি ইত্যাদি এসব কোড দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি হয়ে থাকে। এইসব কোডের মধ্যে এমন অনেক কোড রয়েছে যেগুলো আমাদের বুঝার জন্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আসলে সেইসব কোডগুলো মেশিনের কোন কাজে লাগে না। আর তাই সেই সকল কোড গুলো মুছে ফেলাকে মিনি ফাই বলে। যেমন কোডিং এর মধ্যে কমেন্টস।কোডিং এর মধ্যে কমেন্টস দেওয়া হয় সাধারণত আমাদের বোঝার জন্য যে কোন কোডটি কোন কাজে লাগছে। কিন্তু আমাদের কমেন্টের কোনো প্রয়োজন নেই। কারন আমরা কোনো ডেভলপার না। তাই ওয়েবসাইট থেকে সেই সকল প্রয়োজনীয় কোড গুলো ডিলিট করে দেওয়া হয়। আর এই কাজটি হচ্ছে মিনি ফাই।

মিনি ফাই করার পর উপকারিতা

বন্ধুরা তোমাদের ওয়েবসাইটটি যদি ওয়ার্ডপ্রেসে হয়ে থাকে তখন দেখবে তোমাদের সাইটটি একটু হলেও দেড়িতে লোড নিচ্ছে। স্পিড চেক করার সময় দেখবে প্রায় 4 থেকে 5 সেকেন্ড লেগে যায় পুরো ওয়েবসাইটটি লোড নিতে। আর সাইটে যদি ব্লগারের হয়ে থাকে তাহলে দেখবে এরকমই সময় নিবে লোড হতে। আর তারপর যদি তোমরা তোমাদের এইচটিএমএল সিএসএস জাভাস্ক্রিপ্ট এসব কোড গুলো মিনি ফাই করো তাহলে দেখবে তোমাদের স্প্রিড 2 থেকে 3 সেকেন্ডের চলে এসেছে। বা আগের থেকে কিছু সেকেন্ড কমেছে। আর ওয়েবসাইট যত দ্রুত লোড নিবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন জন্য ততই ভালো।অর্থাৎ এসইও ক্ষেত্রে অনেক উপকার হবে।

তাহলে চলো বন্ধুরা এবার আমরা জানি কিভাবে মিনিফাই করবো।

অনলাইন টুলস এর মাধ্যমে মিনিফাই করা


বন্ধুরা তোমাদের ওয়েবসাইটের জন্য যদি কোন ডেভলপার না থাকে তাহলে টেনশন করার কোন কারণ নেই। কারণ ওয়েবসাইটের কোডিং গুলো মিনি ফাই করার জন্য কোনোরকম ডেভলপারদের প্রয়োজন হতে হয়না। তোমরা নিজেরাই তোমাদের ওয়েবসাইটের কোডিং গুলো মিনি ফাই করতে পারবে। আর কোডিং মিনি ফাই করার জন্য তোমরা বিভিন্ন ধরনের অনলাইন টুলস বা কম্পিউটার বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারো। আমি কিছু অনলাইন টুলস এর নাম বলে দিচ্ছি তোমরা চাইলে সে টুলসগুলো ব্যবহার করতে পারো।
বন্ধুরা উপরে যে তিনটি ওয়েবসাইটের নাম আমি বলেছি এগুুলো দিয়ে তোমরা তোমাদেের ওয়েবসাইটের জাভাস্ক্রিপ্ট এবং সিএসএস ফাইল গুলো মিনি ফাই করতে পারবে।আর এই অনলাইন টুলস গুলো ব্যবহার করা খুবই সহজ।  তোমরা এই অনলাইন টুলস গুলোর মধ্যে ঢুকলে বোঝা যাবে কিভাবে এই টুলস গুলো ব্যবহার করতে হবে। তাহলে আর দেরি না করে এখনই বন্ধুরা তোমাদের ওয়েবসাইটের কোড গুলো মিনি ফাই করে ফেলো। আর আরেকটা জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখবে, মিনি ফাই করার আগে অবশ্যই তোমাদের ওয়েবসাইটের কোড গুলোর একটি ব্যাকআপ রাখবে। কারণ মিনিফাই করার পর অনেক সময় প্রবলেম দেখা দেয়। আর প্রবলেম দেখা দিলে যেনো তোমরা আগের কোড গুলো দিয়ে ঠিক করে ফেলতে পারো। আশা করি বন্ধুরা বুঝতে পেরেছো।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট এর জন্য মিনি ফাই

বন্ধুরা তোমাদের ওয়েবসাইটটি যদি ওয়ার্ডপ্রেসের হয়ে থাকে তাহলে তোমাদের আর এত অনলাইন টুলস ব্যবহার করতে হবে না। ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য মিনি ফাই করা খুবই সহজ।ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্লাগিন পাওয়া যায় যেগুলো দিয়ে তোমরা খুব সহজেই মিনিফাইড করতে পারবে। আর কোনরকম প্রবলেম দেখা দিবেনা।আমি কিছু পপুলার প্লাগিন গুলোর নাম বলছি যেগুলোতে তোমরা খুব সহজেই মিনি ফাই করতে পারবে।
  • Autoptimize
  • Fast Velocity Minify
  • W3 Total Cache
  • WP Fastest Cache
বন্ধুরা এই প্লাগিনগুলো মাধ্যমে তোমরা তোমাদের ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট গুলো খুব সহজেই মিনিফাই করতে পারবে। আর ওয়েবসাইটের মধ্যে কোনরকম প্রবলেম দেখা দিবেনা। আর আগের থেকে তোমাদের ওয়েবসাইটি কিছুটা হলেও দ্রুত লোড নিবে।


তাহলে বন্ধুরা আশা করি তোমরা বুঝতে পেরেছো মিনিফাই কি আর মিনি ফাই কিভাবে করে। যদি তোমাদের মিনি ফাই করতে কোনো রকম প্রবলেম হয় তাহলে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দেবে। আমি সমাধান দেওয়া সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

আর বন্ধুরা আজকে পোস্টটি যদি তোমাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই তোমাদের বন্ধুদের মাঝেও পোস্টটি শেয়ার করে দেবে। তাহলে তোমাদের বন্ধুদের অনেক উপকার হতে পারে। আজকে অনেক কথা বলে ফেললাম বন্ধুরা। সবার ভালো থেকো সুস্থ থেকো। আজ এই পর্যন্তই।

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Post a Comment

Previous Post Next Post