আপনার যেসব ভুলের কারণে ইউটিউব এর সফলতা পাচ্ছেন না, এখনই সমাধান করে নিন

হ্যালো বন্ধুরা। কেমন আছো তোমরা। আশা করি অনেক ভালো আছো। বন্ধুরা তোমাদের মাঝে আমি আবার নতুন একটি পোষ্ট নিয়ে হাজির হলাম। উপরের টাইটেল দেখে তোমরা তো এতক্ষণে বুঝে গেছে আমি আজকে কি নিয়ে কথা বলবো। বন্ধুরা আমার মতো তোমাদের মধ্যে অনেকের স্বপ্ন যে তারা ইউটিউব এর মত প্লাটফর্মে ভালো সফলতা লাভ করবে। কিন্তু নতুন ইউটিউব এর ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ এটি যেহেতু অনেক বড় প্ল্যাটফর্ম তাই ইউটিউবে নীতিমালাও অনেক কঠিন। তাই একজন নতুন ইউটিউবার এর ক্ষেত্রে সেই সকল নীতিমালা মেনে চলা খুবই কষ্টকর। তাই নতুন ইউটিউবারদের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ কিছু সাধারণ ভুল হয়ে থাকে। সে সকল ভুলের জন্যই নতুন ইউটিউবদের ভিডিও রেঙ্ক করে না।

বন্ধুরা আজকে আমি নতুন ইউটিউবারদের পাঁচটি ভুলের কথা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করবো। এই ভুলগুলো সকল নতুন ইউটিউব এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। বন্ধুরা যদি তোমরা এই ভুলগুলো কখনো করে থাকো তাহলে তোমরা কখনোই ইউটিউব এর মতো প্লাটফর্মে সফলতা লাভ করবে না। তাই বন্ধুরা আমি তোমাদের কাছে আজকে রিকোয়েস্ট করবো যেনো তোমরা আজকে আমার পুরো পোস্টটি পড়ো। কারণ আজকে পুরো পোস্টটি পড়ার পরই তোমরা বুঝতে পারবে যে কোন ভুলটি বেশি করো তোমরা। তাহলে চলো বন্ধুরা আমরা এখন সেই পাঁচটি ভুল কাজগুলো ভালোভাবে জেনে নেই। যেন নতুন ইউটিউবারদের ভিডিও রেঙ্ক করাতে সমস্যা না হয়।

কপিরাইট ভিডিও আপলোড করা


অন্য কারো জিনিস কপি করা খুবই বড় অপরাধ। আর কেউ যেন অন্য জিনিস কপি করতে না পারে সেজন্য প্রত্যেকটা দেশে কপিরাইট আইন তৈরি করা হয়েছে। ঠিক তেমনি অনলাইনে কেউ যেন কারো কোনো কিছু কপি করতে না পারে সেজন্য অনলাইনেও প্রতিটা প্ল্যাটফর্ম এর মধ্যেই কপিরাইট আইন তৈরি করা হয়েছে। ইউটিউবের কপিরাইট আইন খুবই কঠিন। যারা নতুন ইউটিউবার তাদের মধ্যে অনেকেই ইউটিউব এর কপিরাইট আইন সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নেই। তারা মনে করে এত কষ্ট করে ভিডিও না তৈরি করে অন্য কারো ভিডিও নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ছেড়ে দিবে।

আমি বলবো এরকম ভুল কাজটি তোমরা কখনো করবে না।কারণ ইউটিউব এ কপিরাইট ভিডিও কখনোই রেঙ্ক করে না। আর তার সাথে ইউটিউব চ্যানেলে ও রেঙ্ক করে না। অনেকে আবার বলবে এরকম অনেক ভিডিও পাওয়া যায় যেগুলো কপি করে চ্যানেলে ছাড়া যায়। একথা ঠিক যে এরকম অনেক ভিডিও পাওয়া যায়। কিন্তু ওইসব ভিডিওতে কোন লিগাল ইনফরমেশন না থাকাতে ইউটিউব কপিরাইট অ্যাকশন নিতে পারে না। কিন্তু ইউটিউব এর এটা ক্ষমতা থাকে যে সেই চ্যানেলটিকে রেঙ্ক না করানোর। আর তোমরা যদি সেসব ভিডিও কপি করো তাহলে তোমাদের সাথেও ঠিক এরকমটাই হবে। তোমাদের চ্যানেল বা ভিডিও কোনটাই কখনোই রেঙ্ক হবে না। তাই আমি বলবো যে কখনোই তোমরা অন্যের ভিডিও কপি করবে না। তোমরা যা পারো সেটাই নিজে ভিডিও তৈরি করো। তোমাদের যদি গেম খেলতে ভালো লাগে তাহলে গেমের ভিডিও তৈরি করো। কিন্তু কখনোও কারো ভিডিও কপি করবে না।

স্প্যামিং করা


বন্ধুরা ইউটিউব এর নীতিমালা মধ্যে একদম স্পষ্ট ভাবে লেখা আছে যে কোনো রকম স্পামিং করা যাবে না। যারা নতুন ইউটিউবার অর্থাৎ যারা মাত্র নতুন ইউটিউব চ্যানেল খুলেছে তারা তাদের চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব বাড়ানোর জন্য অনেকের ভিডিওর নিচে কমেন্ট করে। আবার অনেকে কমেন্ট করে আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।আবার অনেকের কমেন্ট করে আমার চ্যানেলটি ঘুরে আসুন। আবার কমেন্টের মাধ্যমে অনেকের সাথে চুক্তি করা হয় যে আমি আপনার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করবো আর আপনি আমার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করবেন।

এগুলো সব স্প্যামিং এর মধ্যে পড়ে। তোমরা যদি এগুলো করে থাকেন তাহলে কখনোই তোমাদের ভিডিও বা তোমাদের চ্যানেল রেঙ্ক হবে না। গুগলের নীতিমালা মধ্যে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে তোমরা যদি কমেন্টের মধ্যে (sub) এই কথাটা লেখো তাহলেও এটা স্পামিং এর মধ্যে পড়বে।নতুন ইউটিউবারদের চ্যানেলের মধ্যে সাবস্ক্রাইব এবং ভিউ কম থাকে। তাই তারা অন্যের চ্যানেলের কমেন্টে গিয়ে এই ধরনের কমেন্ট করে আসে।কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশ জানে না যে এই ধরনের কমেন্ট করার ফলে তাদের ভিডিওগুলো রেঙ্ক হয় না।

তাই আমি তোমাদেরকে সাজেস্ট করব তোমরা এরকম কোন প্রকার স্পামিং করবে না। তোমাদের ভিডিও যদি ভাল মানে হয় তাহলে এমনিতেই তোমাদের ভিডিও রেঙ্ক হবে। তাই এখন থেকে এই ধরনের স্পামিং থেকে সাবধান হয়ে থাকবে।

ভিডিওতে মিসলিডিং করা


কোন ইউটিউবার যখন তার ভিডিওর সাথে টাইটেল এবং থামনেল মিল রাখে না তখন সেই ভুলটাকে মিসলিডিং বলা হয়। এই ভুলটি নতুন ইউটিউবার রা বেশি করে থাকে। কারণ তাদের চ্যানেলে বেশি ভিউ এবং সাবস্ক্রাইব হয় না। তারা টাইটেল এবং থামনেল এ এমন কিছু ইন্টারেস্টিং দেয় যেটা দেখে ভিউয়ার রা সে ভিডিওতে ঢুকে ভিডিও দেখার জন্য। কিন্তু এই জিনিসগুলো ইউটিউবে রোবটের কাছে একদম নেগেটিভ ভাবে যায়। ইউটিউব এর রোবট ভিডিও গুলো চেক করে যে ভিডিও সাথে টাইটেল এবং থামলেন মিল আছে কি না। যদি মিল না থাকে তাহলে সেই ভিডিওতে যতই ভিউ আসুক সেটি রেঙ্ক করাই না।

তাই তোমাদেরকে অবশ্যই ভিডিওগুলোর টাইটেল এবং থামনেল ভিডিও সাথে মিল রেখে করতে হবে। তা না হলে তোমরা কখনই ইউটিউবে তোমাদের ভিডিও রেঙ্ক করাতে পারবে না।

অডিও ওপর গুরুত্ব না দেওয়া


ভিডিও তৈরি করার সময় বেশিরভাগ ইউটিউব রা শুধু ভিডিওর কোয়ালিটি ওপর গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ ভিডিও তৈরি করার সময় লাইট পিছনের দৃশ্য রেজুলেশন ইত্যাদি ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। কিন্তু তারা অডিওর উপর এতটা গুরুত্ব দেয় না।

ধরেন একটা মুভি নতুন বের হয়েছে। এখন সেই মুভি র ভালো রেজুলেশনের কোন ভিডিও এখনো বের হয়নি। কিন্তু সাউন্ড কোয়ালিটি খুবই ভালো। অডিও কোয়ালিটি ভালো। কিন্তু সেই মুভিটি হলপিন হওয়ার কারণেও সবাই দেখে। কারণ সেই মুভিটি অডিও কোয়ালিটি ভালো। এখন যদি কোন হাই রেজুলেশনের মুভি অডিও কোয়ালিটি ভালো না হয় তাহলে ওই মুভিটি কেউই দেখতে চাইবে না। কারণ সেই মুভিতে কি কথা বলে সেটাই ঠিক করে বোঝা না যায় তাহলে সে মুভি দেখে লাভ কি। তাই অডিও কোয়ালিটি খারাপ হলে কেউই ভিডিও বা মুভি দেখতে চাইবে না।

তাই ইউটিউব এ ভিডিও তৈরি করার সময় অবশ্যই ভিডিও থেকে অডিও মধ্যে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অডিও খারাপ হলে কেউই তোমাদের ভিডিও দেখবে না। আর তোমাদের ভিডিও রেঙ্ক হবে না। আশা করি বুঝতে পেরেছো।

ডিপ্রেশনে পড়া


নতুন ইউটিউবার রা সব থেকে বেশি ডিপ্রেশনে পরে। কারণ নতুন ইউটিউবারদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমি যখন নতুন ব্লগিং তৈরি করি তখন আমার পোষ্টের মধ্যে অনেকেই অনেক বাজে ভাবে কমেন্ট করতো। আমার পোস্ট ভাল হয়নি আরো অনেক কিছু। তখন আমিও অনেক ভেঙ্গে পড়তাম। কিন্তু তারপর আমি ব্লগিং করা ছেড়ে দেই নি। তাই আজ এ পর্যন্ত এসেছি।

তোমরা যারা নতুন ইউটিউবার তারা হয়তো অনেকের কাছ থেকে অনেক কথা শুনেছো। ফালতু ভিডিও বকাঝকা ইত্যাদি এ ধরনের কথা নতুন ইউটিউবদের সব থেকে বেশি শুনতে হয়। যার ফলে নতুন ইউটিউবরা ভেঙে পড়ে বেশি। আর সেই সকল কমেন্ট দেখে যারা ভাবছে ইউটিউব চ্যানেল খুলবে তারাও আর চ্যানেল খুলে না। তাই তোমাদেরকে ডিপ্রেশনে পড়লে হবে না।যে যাই বলুক তোমাদেরকে তোমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমি যদি সে সময় ব্লগিং করা ছেড়ে দিতাম তাহলে ওইখানে ওই পর্যন্তই থেমে থাকতাম। কিন্তু আমি তারপরও ব্লগিং করতে করতে আজ আমার পোস্ট সবার কাছে ভালো লাগে। তাই কে কি বলো এসব না দেখে তোমরা তোমাদের মতো করে ভিডিও বানাতে থাকো। আর এর ফলে তোমাদের ভিডিও বানানোর এক্সপিরিয়েন্সও বাড়বে। আর তোমরা আগের থেকেও ভালো ভালো ভিডিও বানানোর আইডিয়া পাবে।

তাই অন্যের কথায় একদমই ডিপ্রেশনে গিয়ে সবকিছু বন্ধ করে দিবে না। চেষ্টা করতে থাকো। একদিন নিশ্চয়ই সফলতা লাভ করবে। 

বন্ধুরা তাহলে আশা করি তোমরা এখন থেকে এ ধরনের ভুল গুলো আর কখনোই করবে না। ছোট থেকে ছোট ভুলগুলোর কারণেও ইউটিউব ভিডিও গুলো রেঙ্ক করে না। তাই অবশ্যই অবশ্যই তোমাদের উচিত ইউটিউব এর নীতিমালা গুলো ভালোভাবে পড়ে নেওয়া। আর যদি বন্ধুরা পোস্টটি থেকে তোমরা নতুন কিছু শিখতে পারো তাহলে অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে দিবে। হয়তো আরো অনেকে এই ভুলগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে। তাহলে তাদেরও অনেক উপকার হবে।

বন্ধুরা আজকে অনেক কথা বলে ফেললাম। আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভালো থেকো সুস্থ থেকো।

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

1 Comments

Post a Comment

Previous Post Next Post