নতুন চাঁদ পৃথিবীর কক্ষপথে - [২০২০]

হাই বন্ধুরা। আমি তানভীর। আবারো তোমাদের মাঝে নিয়ে আসলাম সাইন্স ফিকশনের চমৎকার একটি পোস্ট। বন্ধুরা তোমাদের মধ্যে যাদের সাইন্স রিলেটেড টপিক ভালো লাগে তাদের জন্য আজকে আমার এই পোস্ট।তোমরা ইতোমধ্যে উপরের টাইটেল দেখে বুঝে গেছো আমি কি নিয়ে পোস্ট করতে যাচ্ছি। বন্ধুরা তোমরা যদি নিয়মিত খবরের কাগজ দেখো বা খবরের চ্যানেল গুলো দেখো তাহলে তো তোমাদের কাছে এই টপিকটা বেশ পরিচিত। তবে যারা এখনো এই টপিকটি সম্পর্কে ধারণা পাও নাই তারা আজকে আমার এই পোস্ট থেকে জেনে নাও।

বন্ধুরা তোমরা সবাই জানো যে আমাদের পৃথিবীতে চাঁদ একটি। কিন্তু এই কিছুদিন হলো সকল নিউজ এর মধ্যে বলছে যে পৃথিবী নতুন চাঁদ পেতে চলেছে। অর্থাৎ আমাদের পৃথিবীর দুটি চাঁদ হবে। কিন্তু অনেকে ভাবছে এটি একটি ভুল নিউজ। বন্ধুরা এই নিউজগুলো তোমরা স্পেস নিউজ ওয়েবসাইটের মধ্যে পাবা। আর যতো পপুলার নিউজ ওয়েবসাইট রয়েছে সেগুলো মধ্যেও পেয়ে যাবা এই নিউজটি। তাই এই নিউজটা কোনরকম ভুল নিউজ না। ইন্ডিয়ার অনেক নিউজপেপার মধ্যেও এই টপিকটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তাহলে চলো বন্ধুরা এখন আমরা এই নতুন চাঁদ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেই। কিভাবে এই নতুন চাঁদ আমাদের পৃথিবীর কক্ষপথে এল এবং এই নতুন চাঁদের সঠিক তথ্য গুলো আমরা আজকে এই পোষ্টের মধ্যে জানব।

নতুন চাঁদের নামকরণ

অ্যারিজোনা নামে একটি শহর আমেরিকাতে রয়েছে। আর সেই অ্যারিজোনা শহরের মধ্যে নাসা কোম্পানি একটি প্রজেক্ট চালু করেছে। আর সেই প্রযুক্তির নাসা কোম্পানির নাম দেয় ক্যাটরিনা স্কাই সার্ভে। আর এই ক্যাটরিনা স্কাই সার্ভে এর মধ্যে নাসা কোম্পানি একটি অবজারভেটরি ব্যবহার করে। আর সেই অবজারভেটরি কে নাসা কোম্পানি নাম দেয় মাউন্ট লেমন অবজারভেটরি। সেই অবজারভেটরির মধ্যে অনেক ছোট ছোট টেলিস্কোপ রয়েছে। অনেক ছোট ছোট টেলিস্কোপ দিয়ে এই মাউন্ট অবজারভেটরি তৈরি করা হয়। এই অবজারভেটরির মধ্যে অনেক বিজ্ঞানীরা
রয়েছে। আর তারা এখানে মহাকাশ নিয়ে স্টাডি করে।

সময়টা 2020 সালের 15 তারিখ। দুইজন বিজ্ঞানী মহাকাশের মধ্যে একটা জিনিস লক্ষ্য করলো। একটি নতুন চাঁদ আমাদের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। আর এই জিনিসটি বাকি বিজ্ঞানীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আর সাথে সাথে সমস্ত নিউজ পেপার আর খবর চ্যানেল এটি ছড়িয়ে পড়েছে। তারপর থেকে আস্তে আস্তে বাকি বিজ্ঞানীরাও সেই নতুন চাঁদটি মহাকাশে দেখতে পায়। আরে এই নতুন চাদটিও আমাদের পৃথিবীকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করছে। তারপর নাসা কোম্পানি এই নতুন চাঁদ টির নাম দেয় 2020 CD3। আর এভাবেই আমাদের নতুন চাদটির নামকরণ করা হয়।

2020 CD3 নতুন চাঁদটির কক্ষপথ


এই নতুন চারটি আমাদের পৃথিবী কে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে পৃথিবীর কক্ষপথে চারদিকে আবর্তন করছে। আর এই চাঁদটি কক্ষপথ এর পর্যবেক্ষণ ত্বরণ হচ্ছে 36 দিন। অর্থাৎ পুরো 36 দিনে এই নতুন চাঁদটি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে থাকে।

2020 CD3 নতুন চাঁদটির তথ্য


2020 CD3 কে আমরা সবাই নুতন চাঁদ হিসেবে চিনি।অনেকে আবার ভালোবেসে এটিকে ছোটো চাঁদ বলে।আসলে এটি একটি গ্রহাণু। আর যখন বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করলো যে এটি শুধু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে তখন এটির নাম রাখা হয়েছিল ছোটো চাঁদ। কিন্তু পরবর্তীতে নাসা এর নাম রাখেন 2020 CD3। আর এই গ্রহাণুর ব্যাস হচ্ছে ১.৯ থেকে ৩.৫ মিটার। যা একটা গাড়ির সমান। আর আমাদের চাঁদের ব্যাস হচ্ছে ৩৪৭৪.২ কিলোমিটার। তাই এই নতুন চাদটিকে ছোটো চাঁদ ও বলা হয়।

বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা করেছেন এই গ্রহাণুটিকে নিয়ে। তারা এটা মনে করছে যে এই গ্রহাণুটি এসেছে গ্রহাণু বেল্ট থেকে। এই গ্রহাণুটি যখন গ্রহাণু বেল্ট থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন পৃথিবীর গ্রাভিটির শক্তির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায়।আর তারপর থেকে এটি পৃথিবী কে প্রদক্ষিণ করা শুরু করেছে। এই গ্রহাণুটি প্রায় তিন বছর ধরে পৃথিবী কে প্রদক্ষিণ করছে। গবেষণা দের মধ্যে এই গ্রহাণুটি আর ছয় মাসের মতো আমাদের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে। তারপর এই গ্রহাণুটি আবার আমাদের পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে চলে যাবে অন্য কোথাও। হয়তো অন্য কোন গ্রহকে প্রদক্ষিণ করতে চলে যাবে।

বন্ধুরা এই নতুন গ্রহাণু ছাড়োও আরেকটি গ্রহাণু আছে যেটা 2016 সালে পাওয়া গিয়েছিল। আর সেই গ্রহাণুটির এর নাম রাখা হয়েছিল  2016 HO3। এই গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে নয় লক্ষ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করছে। বন্ধুরা তাহলে এখন তোমাদের মনে প্রশ্ন হতে পারে এটি কে কেন চাঁদ বলা হয় না। কারণ এটি পৃথিবীর সাথে সাথে সূর্যকেও প্রদক্ষিণ করে। আর 2020 সালে যে নতুন গ্রহাণুটি পাওয়া গিয়েছে এটি শুধু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। তাই এটিকে মিনি চাঁদ বলা হয়েছে। কিন্তু 2016 HO3 গ্রহাণুটি শুধু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে না। তাই এটিকে চাঁদ বলা হয়নি। যদি বিজ্ঞানীরা এগুলোকে চাঁদ হিসেবে ধরতো তাহলে আমাদের পৃথিবীর পাঁচটা চাঁদ থাকতো। কিন্তু সেই সব গুলো পৃথিবীর সাথে সাথে অন্যান্য গ্রহ গুলোকে প্রদক্ষিণ করছে। তাই সেগুলো কে চাঁদ বলা হয় না।

2020 CD3 মানুষের ইতিহাসে পৃথিবীর জন্য দ্বিতীয় চাঁদ। আপনারা হয়তো জানেন না তার আগে পৃথিবীর জন্য আরেকটি চাঁদ পাওয়া গিয়েছিল। আর সেটি পাওয়া গেছিল 2006 থেকে 2007 সালের মধ্যে।আর সেই চাঁদটি শুধুমাত্র 18 মাস পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছিল। তারপর সেই চাঁদটি অন্য কোন দিকে মহাকাশে চলে গেছে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে। তাই এইবার 2020 CD3 চাঁদটি আমাদের জন্য খুবই স্পেশাল।

তাহলে বন্ধুরা আজকে এই নতুন চাঁদের সম্পর্কে জেনে তোমাদের কি রকম লাগলো সেটা অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দেবে।আর যদি তোমরা বিজ্ঞান রিলেটেড আর কোন টপিক সম্পর্কে জানতে চাও তবে সেটা অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে আমাকে জানিয়ে দিবে। আমি ইনশাল্লাহ পরবর্তীতে সেই টপিক নিয়ে আলোচনা করবো।

আর বন্ধুরা যদি আজকের পোস্টটি তোমাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই তোমরা অন্যদের কাছেও শেয়ার করে দিবে।আর তোমরা বেশি বেশি শেয়ার করলেই যারা পৃথিবীর নতুন চাঁদ সম্পর্কে জানে না তারাও জেনে যাবে।

তাহলে বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই। আগামীতে নতুন কিছু নিয়ে আসবো। সবাই ভালো থেকো সুস্থ থেকো।

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Post a Comment

Previous Post Next Post